গোবিন্দগঞ্জে মিথ্যা মামলায় ৮ পরিবার হয়রানির শিকার

গোবিন্দগঞ্জ প্রতিনিধিঃ গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ থানায় দায়ের করা মিথ্যা মামলায় ৮টি নিরীহ পরিবার হয়রানির শিকার হচ্ছেন। তাদের এই মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়ার জন্য এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে জেলা পুলিশ সুপারের কাছে আবেদন করা  হয়েছে। 

  জানা গেছে, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে পৌর এলাকার বুজরুক বোয়ালিয়া গ্রামের মাহফুজার রহমান ওরফে মাফি (২৮) নেতৃত্বে ৭-৮ জনের স্বশস্ত্র যুবকের দল ৮ মার্চ ফজলু (৩০) ও গোলাম মোস্তফা (৪৫) কে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। পরে স্থানীয় লোকজন উভয়কে উদ্ধার করে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে দেয়। কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, শরীর থেকে প্রচুর রক্ত ক্ষরন হওয়ায় উভয়কে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। আহত ফজলু ভাগদরিয়া গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে ও গোলাম মোস্তফা সাতাইল বাতাইল গ্রামের মিনু সরকারের ছেলে। 

এদিকে পরিকল্পিতভাবে এ সন্ত্রাসী তান্ডব চালানোর পর মাফি বাদি হয়ে ফজলু ও গোলাম মোস্তফাসহ ৮ পরিবারের নামে ১০ জনকে অভিযুক্ত করে স্থানীয় থানায় মামলা করেন। যার থানা মামলা নং ২২, জি আর নং ১৩৩, ধারা ১৪৩ / ১৪৮ / ৩২৩ / ৩২৫ / ৩২৬ / ৩০৭ / ৩৫৪ / ৩৭৯ /৩ ৮০/৩৮৫/৪২৭/১১৪ দন্ডবিধি, তারিখ ১০ মার্চ/১৪ইং। মামলার এফ,আই,আর-এ ইজাহার কারীসহ কয়েকজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হওয়ার কথা উল্লেখ থাকলেও বাস্তবে তারা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। পুলিশ সুপারের কাছে দেয়া এ অভিযোগে উল্লেখ করা হয় মাফির আপন জ্যাঠা আমজাদ হোসেন। তিনি গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অবসর প্রাপ্ত এম,এল,এস,এস হলেও বর্তমানে ওই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসকের সঙ্গে দিন হাজিরা হিসেবে কাজ করেন। স্থানীয় ছাইদুর রহমান জানান , মাফি ও তার লোকজন চুল পরিমান আহত হয়নি। অথচ ভাতিজার খাতিরে আমজাদ হোসেন কাগজ কলমে তাদের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি  দেখিয়ে গুরুতর জখমের সার্টিফিকেট নেয়ার অপচেষ্ঠা চালাচ্ছেন। এ প্রসঙ্গে  মতামত নেয়ার জন্য শনিবার বিকাল ৪টা ৪৭ মিনিটে মোবাইল করা হলে স্বাস্থ্য কর্মকর্তা শাহজাহান আলী সরকারের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আবুল কালাম আজাদ জানান, এফ আই আর অনুযায়ী জখমির মেডিকেল রিপোর্টের জন্য স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত রিপোর্ট পাওয়া যায়নি। থানার ওসি জাহিদুল ইসলাম জানান, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে মেডিকেল রিপোর্ট যাই দেকনা কেন? জখমীকে স্বচোখে দেখার পর পদক্ষেপ নেয়া হবে।#

Share on Google Plus

About Unknown

This is a short description in the author block about the author. You edit it by entering text in the "Biographical Info" field in the user admin panel.
    Blogger Comment
    Facebook Comment

0 comments:

Post a Comment