গোবিন্দগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধিঃ গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার জামালপুর বাজারে যুবলীগ ও যুবদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে হামলা ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া, ভাংচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার দিবাগত রাতে এই বরর্বচিত তান্ডব ঘটে।
জানা গেছে, উপজেলার তালুক কানুপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মাসুদ মহুরী দীর্ঘদিন থেকে এলাকায় একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে সন্ত্রাসী, চাদাবাজি সহ বিএনপি সমর্থিত নেতাকর্মীদের নামে মামলায় দিয়ে নাজেহাল করে আসছিল। গত ১৫ এপ্রিল আবারও একটি হয়রানী মূলক মিথ্যা মামলায় ৮ নং ওয়ার্ড যুবদলের সিনিয়র সহ সভাপতি মিজানুর রহমান সহ বেশ কয়েকজনকে আসামী করে মামলা হয়। মিজানুর রহমান জানান, এই মামলা থেকে বাদ দেয়ার শর্তে মাসুদ মহুরী তাকে আওয়ামীলীগে যোগদান করার জন্য বলে। এ নিয়ে শুক্রবার সন্ধ্যায় জামালপুর বাজারে দুই পক্ষের মধ্যে বাক বিতন্ডার এক পর্যায়ে সংঘর্ষে মাসুদ মহুরী আহত হয়। তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বগুড়ায় একটি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। মাসুদ মহুরী জানান, স্থানীয় সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদের সংবর্ধণার প্রস্তুতি নিয়ে ওইদিন বাজারে আলোচনা চলছিল। এ সময় যুবনেতা মিজানুর সহ ৫/৬জন ব্যক্তি এসে সংবর্ধনা দেওয়া থেকে বিরত থাকার জন্য বলে। এ নিয়ে কথাকাটির এক পর্যায়ে সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে। এ ঘটনায় পুলিশি আতঙ্কে যুবদল নেতাকর্মীরা পালিয়ে যাওয়ার সুযোগে স্থানীয় যুবলীগের ১০০/১৫০জন নেতাকর্মী সংগঠিত হয়ে রাত ৯টার দিকে জামালপুর বাজারে ৮ ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আবু হানিফের কাপড়ের দোকানে হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও লুটপাট করে নিয়ে যায়। আবু হানিফ জানান, এতে নগদ ৫০ হাজার টাকাসহ প্রায় ৮ লক্ষ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। পরে বিক্ষুদ্ধ যুবলীগ কর্মীরা যুবদল নেতা সুন্দইল গ্রামে মিজানুর রহমানের বাড়িতে হামলা চালায়। মিজানুর জানায়, যুবলীগ কর্মীরা পেট্রোল দিয়ে অগ্নিসংযোগ করে তার বাড়ীঘর পুড়িয়ে দেয়। এছাড়াও বাড়িতে থাকা নগদ ১ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা, ৯ ভরি স্বর্ন, দুটি গরু, ৫ মন গুড়, ২ মন চাল ও একটি ল্যাপটপ সহ বিভিন্ন তৈজসপত্র নিয়ে যায়। লুটপাট শেষে রান্না ঘর, গোয়াল ঘর, টেবিল চেয়ার, জানালা, দরজা, শ্যালোমেশিন সহ এমনকি ল্যাট্রিন পর্যন্ত সন্ত্রাসীরা ভাংচুর করে। মিজানুরের পরিবারের লোকজন অভিযোগ করে বলেন, পুলিশের উপস্থিতিতেই যুবলীগের সন্ত্রাসীরা এই সব তান্ডব চালায়। এ প্রসঙ্গে এস আই ইসমাইল হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, আমরা ঘটনাস্থল থেকে ফিরে আসার পর মিজানুরের বাড়ীতে এ তান্ডব ঘটে।
0 comments:
Post a Comment